করোনা ভাইরাস সতর্কতা তামাবিল সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া ঢুকতে পারছেন না কেউ

নুরুল হক শিপু
মেরি। ২৮ বছরের যুবতী। তিনি চেক রিপাবলিকের নাগরিক। ভারত ঘুরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে সিলেটে এসেছেন গতকাল বুধবার বিকেলে। ইমিগ্রেশন করার আগেই তাকে যেতে হয়েছে ডাক্তারদের কাছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকেরা প্রথমেই তার কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি সর্বশেষ কবে চীন ভ্রমণ করেছিলেন। জবাবে মেরি জানালেন, ৭-৮ মাস আগে। এরপর তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ আছে কি-না-তা পরীক্ষা করা হলো। থার্মোমিটার দ্বারা মাপা হলো শরীরের তাপমাত্রা। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ না থাকায় তাকে পাঠান হলো ইমিগ্রেশনে। ইমিগ্রেশন শেষে মেরি বাংলাদেশ ভ্রমণের অনুমতি পেলেন।
শুধু চেক রিপাবলিকের নাগরিক মেরিই নয়; এমন সতর্কতার মধ্যে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে প্রত্যেক আগন্তককে। যারা সিলেট থেকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা না হলেও যারা এই সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করোনা ভাইরাসের উপসর্গ আছে কি-না পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে চীনের কোনো ফ্লাইট আসছে না এবং বাংলাদেশ থেকেও কোনো ফ্লাইট চীন যাচ্ছে না। তাই সীমান্তে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ আছে কি-না পরীক্ষা করেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে পর্যটক প্রবেশ করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী আমরা পাইনি। তবুও বিশেষ নজরদারি এবং শতর্কতায় পুলিশ, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।’
সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ডাক্তারদের সার্বিক সহযোগিতা করছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে উপসর্গ পরীক্ষা ছাড়া কোনো ব্যক্তিই ঢুকতে পারছেন না।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো পর্যটক আমরা পাইনি। তিনি বলেন, এই সীমান্ত দিয়ে যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রথমেই আমরা দেখছি করোনা ভাইরাসের উপসর্গ আছে কি-না। এরপর তাদের শারীরিক তাপমাত্রা থার্মোমিটার দ্বারা মাপা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদিও আমরা এখন পর্যন্ত জ¦রে আক্রান্ত কাউকে পাইনি। যদি জ¦রে আক্রান্ত কোনো পর্যটক পাই তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠাব। সেক্ষেত্রে ওই রোগীকে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আলাদাভাবে রাখা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক লোক মারা গেছেন। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। তাই বাংলাদেশে যাতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে। এরই অংশ হিসেবে তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক সানাউল হক রমজান জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে কোনোভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য মেডিকেল ক্যাম্পের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা করছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বর্তমানে বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে পর্যটকদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন দিয়ে যারা এসেছেন এদের প্রায়ই বাংলাদেশি। একজন শুধু চেক রিপাবলিকের নাগরিক। তিনি ৭-৮ মাস আগে চীন ছিলেন। তবে তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ মিলেনি।

শেয়ার করুন