শাবি ভর্তিপরীক্ষায় জালিয়াতির ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক ৫ বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি, ট্রেন বিড়ম্বনা

স্টাফ রিপোর্টার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতক ভর্তিপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রসহ নগরীর মোট ৩২টি কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটের ও ৪৬টি কেন্দ্রে বি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর শাবিতে ১ হাজার ৭০৩টি আসনের বিপরীতে মোট ৭১ হাজার ১৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করেন। সে হিসেবে প্রতিটি আসনের জন্য ভর্তিযুদ্ধে লড়েন ৪২ জন শিক্ষার্থী। ভর্তিপরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসসহ ৫ জনকে ৪টি কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়েছে।
সকালে এ ইউনিটের পরীক্ষায় সবকটি কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে ঢুকিয়ে অভিভাবকদের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বৃষ্টি আসলেই অনেক অভিভাবককে দেখা গেছে দৌঁড়ে পার্শ্ববর্তী মার্কেট, দোকান ও যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নিতে। আশ্রয় না পেয়ে অনেক অভিভাবককে বৃষ্টিতে ভিজে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘এ’ ও ‘বি’ এই দুই ইউনিটে ১ হাজার ৭০৩টি আসন রয়েছে। যার বিপরীতে আবেদন জমা হয়েছে ৭০ হাজার ৫৪৩টি। ‘এ’ ইউনিটে ৬১৩ টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৩৯টি এবং ‘বি’ ইউনিটে ৯৯০ টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন মোট ৪৩ হাজার ৫০৪ জন পরীক্ষার্থী। এদিকে ‘বি’ ইউনিটের বি১ ইউনিটে আবেদন করেছেন ৪০ হাজার ৫৪১ জন ও বি২ ইউনিটে আবেদন করেছেন ২ হাজার ৯৬৩ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৭০৩টি আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ২৮, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/জাতিসত্তা/হরিজন-দলিত ২৮, প্রতিবন্ধী ১৪, চা-শ্রমিক ৪, পোষ্য ২০ এবং বিকেএসপি কোটায় ৬ জনের জন্য ১০০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
‘এ ইউনিটের’ পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বাস, মাইক্রোবাস, রিকশা ও অটোরিকশাযোগে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দেওয়া ২০টি বাসেও পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন বাইকার সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করেন কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে।
ভর্তিপরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা হলে প্রবেশের দায়ে ৫ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। চারটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটককৃতদের কাছে থেকে ক্যালকুলেটর, সিমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। ভর্তিপরীক্ষায় চারটি কেন্দ্রে ৫ শিক্ষার্থী ক্যালকুলেটরের মধ্যে সিম ঢুকানো ডিজিটাইল ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করেন। পরীক্ষকদের নজরে পড়ার পর তাদের আটক করা হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা। তিনি জানান, মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে একজন, সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন, সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে একজন এবং মদিনা মার্কেটস্থ শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ক্যালকুলেটরে সিম ব্যবহার করে উত্তর আদান-প্রদান করার চেষ্টাকালে তাদেরকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে বগুড়ার বৃন্দাবনপাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে মাহমুদুল হাসানকে (১৮) পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে আটক করা হয়। বাকি আটককৃতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে শাবির প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শাবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, প্রতিবছরের মতো এবারো বহু নির্বাচনি পদ্ধতিতে ৭০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জিপিএর উপর থাকছে সর্বোচ্চ ৩০ নম্বর। এদিকে বহু নির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় সময় দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ভর্তিপরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ও তা সম্পন্ন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন