শায়েস্তাগঞ্জে পাবজি গেমসে তরুণদের ‘ব্রেইন ওয়াশ’

সিলেটের মানচিত্র ডেস্ক::
দিনদিন ইন্টারনেট ‘ফাইটিং ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে’ ঝুঁকছে শায়েস্তাগঞ্জের তরুণরা। করোনায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অলস সময়ে এ গেমসে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

জানা গেছে, উপজেলার উঠতি বয়সের শিক্ষার্থী ও তরুণরা দিনদিন ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের নিয়মিত পড়ালেখাসহ শিক্ষা পাঠ গ্রহণ নিয়ে ও খেলার মাঠে ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জড়িয়ে পড়ে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। আর এ গেম নেশায় ঝুঁকছেন ৮ বছর থেকে ২১ বছরের উঠতি বয়সের যুবকরা। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন সচেতন মহল।

ফায়ার গেমসের অনুরাগীরা জানান, ‘প্রথমে তাদের কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছেন। এখন গেমস না খেলে তাদের অস্বস্তিকর মনে হয়।’

আরেকজন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আল সুজাত জানান, ‘তিনি পূর্বে গেমস সম্পর্কে কিছু জানতেন না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলেন। মাঝে-মধ্যে গেমস খেলতে না পারলে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয় তার।’

এছাড়া ফ্রি ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে সে আর ছাড়তে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি। তিনি সারারাত গেইমস খেলেন আর দিনে ঘুমাতে যান।

এদিকে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নামক গেমসকে মাদকদ্রব্যর নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে নূরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘আমাদের সময় আমরা অবসর সময়টি বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পার করতাম। কিন্তু এখনকার যুগে নতুন প্রজন্ম সন্তানদের মাঝে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জেলার গ্রাম-গঞ্জে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রুপ গেম মহামারী আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন- শিক্ষার্থীরা অনেকে পড়ার টেবিল ছেড়ে খেলছে মোবাইল গেমস, কখনো ইন্টারনেটের খারাপ সাইটে বিভিন্ন ছবি দেখছে। এতে একদিকে তাদের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তাই কিশোর-কিশোরীদের মা-বাবাসহ সমাজের সবারই খেয়াল রাখতে হবে, যেন তারা মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার না করে। এ ব্যপারে প্রতিটি সন্তানকে একটু যত্ন সহকারে খেয়াল রাখার দায়িত্ব বা কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি।

তিনি এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ভাই-বোনদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর এটু আই প্রকল্প থেকে কিশোর বাতায়ন করা হয়েছে। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদন জাতীয় কিছু জিনিস এড করা আছে। তারা চাইলে ফ্রি টাইমগুলো এই সাইটে ব্যয় করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এই করোনাকালে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় সব ছেলে-মেয়েরা বাসায় থাকে। এ অবস্থায় অভিবাবকদের উচিত তাদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো। অনলাইন ক্লাস থাকলে নির্দিষ্ট সময় তাদের হাতে স্মার্ট ফোন দিতে হবে, রাত জেগে গেমস যাতে না খেলতে পারে অভিভাবকদের সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

সিলেটের মানচিত্র/ ১১নভেম্বর/ শামছুন নাহার রিমু

শেয়ার করুন