পীরমহল্লায় ভূমি দখল, আহত সহোদরদের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :::
সিলেট নগরীর পীরমহল্লা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক দম্পতির ক্রয়কৃত ভূমি দখলে নিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান ও তার লোকজন। গতকাল (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় আফতাববাহিনী মা-মনি শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার শাহ জসিম আলী ও তার স্ত্রী রওশন জাহান মিলির মালিকানধীন ভূমিটি দখলে নেন।
এ সময় বাধা দিলে আফতাব বাহিনীর হামলায় আহত হন শাহ জসিম আলী ও তার বড়ভাই শাহ নজরুল ইসলাম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে রাতেই এ ঘটনায় সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান আহত শাহ জসিম আলী ও শাহ নজরুল ইসলামকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান ও তার বাহিনী শাহ জসিম আলী ও তার স্ত্রী রওশন জাহান মিলির মালিকানাধীন ভূমি দখলের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে এ দম্পতিতে নাস্তিক আখ্যায়িত করে জুমআর খুতবা পূর্ববর্তী বয়ানে দোররা মারার ঘোষণা দেওয়া হয়। নির্বাচন পরবর্তী প্রতিহিংসার জের ধরে শাহ জসিম দম্পতির বাড়িতে লুটপাট শেষে আগুন দেয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ৭ নং কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান ও তার ডানহাত হিসেবে পরিচিত চাঁদাবাজ পাঙ্গাস।
সিলেট নগরীর পশ্চিম পীরমহল্লার ঐক্যতান ১৪১/৫৩ নম্বর বাসায় মা ও শিশু ক্লিনিকের ম্যানেজার শাহ জসিম আলীর বাসভবনে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুষ্কৃতিকারীরা। এ সময় বাসার লোকজন অল্পের জন্য আগুন থেকে রক্ষা পেলেও বাসার দামি মালামাল, স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুটপাট করে দুষ্কৃতিকারীরা।
বাসার মালিক মা মনি শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার শাহ জসিম আলী জানান, আমরা বিরোধী দল বিএনপি ঘরানার মানুষ হওয়ায় কয়েকদিন আগে কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের গ্রুপের চাঁদাবাজ পাঙ্গাশ, লুকুসহ অন্যরা আমার ভাইয়ের দোকানে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে আমার ভাই অপারগতা প্রকাশ করলে কিল-ঘুষি দিয়ে চলে যায়। এ সময় ক্যাশে থাকা ২০/২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হুমকি দেয় আমাদের ভূমি দখল করে এলাকা ছাড়া করবে।
এ ঘটনার পরদিন থেকে পাঙ্গাশ, লুকুসহ কাউন্সিলর আফতাব গ্রুপের লোকজন এলাকায় আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। তারা বলতে থাকে আমরা স্বামী স্ত্রী নাস্তিক। আমরা না কী ধর্মে অবিশ্বাসী। অথচ আমরা নিয়মিত ধর্ম কর্ম পালন করে থাকি। তাদের এ অপপ্রচার ও কাউন্সিলরের প্রভাবে পরের শুক্রবার মসজিদে জুমআর নামাজে খুৎবা পূর্ব বয়ানে মসজিদের মাইকে প্রকাশ্যে আমাদের নাম ধরে দোররা মারার কথাও বলা হয়।
তিনি আরো বলেন, কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর শাখার সভাপতি হওয়ার কারণে আলাদা প্রভাব বিস্তার করে আছেন। তার কথায় সিলেটের পুলিশ প্রশাসন কাজ করে। চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করে নি। ফলে নিরুপায় হয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে থাকি।
সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট না দেওয়া ও চাঁদা না দেওয়ায় গত সোমবার রাতে কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, তার সহযোগী পাঙ্গাশ ও লুকুসহ সন্ত্রাসীরা রাতে অস্ত্রের মুখে বাসায় প্রবেশ করে আমাদের একটি রুমে অস্ত্রের মুখে আটকে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটপাট করে বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
এসময় আতœরক্ষার্থে আমরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিই। কিন্তু কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান প্রভাব খাটিয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেন নি। ভোট না দেওয়ায় একই রাতে আরো ৩টি বাসায় আগুন দিয়ে নিজের প্রতিহিংসার বাস্তবায়ন ঘটান কাউন্সিলর আফতাব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান সিলেটের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। মাদক ও অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজিসহ প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। সরকারি দলের লোক হওয়ায় থানাপুলিশও তার কথা মতো চলে।
অভিযুক্ত কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান বলেন, এটা আমার এলাকার বিষয়। সাংবাদিকদের নাক না গলানো ভালো। শাহ জসিম আলী ও তার স্ত্রী রওশন জাহান মিলি পুরোপুরি নাস্তিক। তারা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের দোররা মারা হবে।
এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, মামলার পর হাসপাতাল থেকে ২ ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

  •  
শেয়ার করুন