মাদক মামলায় কারাগারে সাংবাদিক তাইজুল ইসলাম ,সিলেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট এয়ারপোর্ট এলাকার বাইশটিলা থেকে ফেরার পথে নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ওসমানী স্বর্ণপদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও লেখক মোঃ তাইজুল ইসলাম( ফয়েজ) কে এক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে আজ রোববার সকাল ১১টায় গ্রেপ্তার করেছে সিলেট এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।
থানার এসআই ইয়াসির আলী বাদী হয়ে ০১/১৫ নং মামলায়,১৯৯০(১৯)(১)(খ)ধারায় আসামি করে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতে হাজির করেন তাইজুল ইসলামকে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফুর আলী, এডভোকেট আবুল খায়ের ৭ দিনের রিমান্ড চান। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান ও সাইদুর রহমান আলেক বিজ্ঞ আদালতকে জানান তাইজুল ইসলাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সুধী জনের কাছে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। একজন কলাম লেখক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে করেছেন সেমিনার । এসময় তার আইনজীবিরা সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি মুহিত চৌধুরী কর্তৃক লিখিত পত্র উপস্থাপন ও বিভিন্ন পত্রিকার কাটিং এবং ইনকাম ট্যাক্স হোল্ডার সনদপত্র দাখিল করে বলেন, তাইজুল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার । তাই তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হোক। পরে বিচারক মিজানুর রহমান রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন এবং আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন । তাইজুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক আলী সাংবাদিকদের বলেন, বাইশটিলা থেকে জিন্দাবাজার ফেরার পথে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জোরপূর্বকভাবে উনাকে নিয়ে যায়। এব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার ওসি গৌছ খান মোবাইলে কথা বলতে রাজি হননি। পরে এয়ার্পোট থানায় সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে ওসি বলেন এ ব্যাপারে কথা বলা যাবেনা। উপর মহল থেকে নিষেধ আছে। তখন সাংবাদিকরা বলেন তাহলে আমরা কি ধরে নেব উপর মহলের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ? এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ওসি। এ ব্যাপারে সিলেট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখবো। আর কিছু না বলেই তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
এদিকে সাংবাদিক তাইজুল ইসলামকে গ্রেফতারের সংবাদ মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়লে আদালতপাড়াসহ সিলেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আদালত পাড়ায় সিলেটের বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত হন। সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যকল্যাণ পরিষদের সভাপতি, বিএনপি নেতা ও মোল্লারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মকন মিয়া বলেন, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের মিলেনিয়াম মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সফল নির্বাচন কমিশনার তাইজুল ইসলাম পেশী শক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নুর গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা আশাবাদী বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন এবং আমরা ন্যায় বিচার পাব। সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম বলেন, এটি একটি সাজানো মামলা। আজকাল আমরা লক্ষ্য করছি সমাজের ভাল মানুষদের নষ্ঠ করার জন্য বিভিন্ন সাজানো মামলায় আসামী করা হয়। তাইজুল ইসলামের বিষয়ে আমরা সরকারের ঊর্ধ্তন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো। আশা রাখি ১৭ তারিখ উনার জামিন হবে। সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী উপস্থিত সবাইকে শান্তনা দিয়ে বলেন, তাইজুল ইসলাম একজন কলমযোদ্ধা এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সিলেটের কোন মানুষ এটি বিশ্বাস করবেনা। এসময় আদালত পাড়ায় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল, মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, লকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি শাহিনুর রহমান চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জয়নাল, সিলেট মিলেনিয়াম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম উদ্দিন চৌধুরী সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ,কবি সাহিত্যিক সহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকে তাইজুল ইসলামের মুক্তি দাবী করেন। অন্যথায় মানববন্ধন, প্রেস কনফারেন্সসহ বিভিন্ন রকম আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে নেতৃবৃন্দ জানান।

  •  
শেয়ার করুন