1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. contentmgr9860@outlook.com : contentmgr98 :
  3. saikatpersonal2117@gmail.com : dailymanchitro :
  4. siteadmin1047@yahoo.com : siteadmin10 :
  5. siteadmin3992@outlook.com : siteadmin39 :
১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শনিবার| সকাল ৭:৪৩|
শিরোনামঃ

“স্যান্ডউইচ সাংবাদিকতা” : সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও পেশাগত সংকটের এক নতুন কৌশল

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ১৪ Time View

মূলধারার সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, প্রভাব খাটানো ও আইনি দায় এড়ানোর প্রবণতা—কতটা ভয়ংকর এই “স্যান্ডউইচ সাংবাদিকতা”?
ঢাকা | ১৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা পেশা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে “সাংবাদিক” পরিচয়কে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি কিংবা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অনিবন্ধিত তথাকথিত মিডিয়ার বিস্তারের ফলে এই প্রবণতা আরও জটিল আকার নিয়েছে।

মিডিয়া বিশ্লেষকরা এই প্রবণতাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “স্যান্ডউইচ সাংবাদিকতা” নামে আখ্যা দিচ্ছেন—যেখানে একজন ব্যক্তি পরিস্থিতি অনুযায়ী সাংবাদিক পরিচয়কে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে ব্যবহার করেন, ঠিক একটি স্যান্ডউইচের স্তরের মতো।


কী এই “স্যান্ডউইচ সাংবাদিকতা”?

গবেষক ও মিডিয়া পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমন এক আচরণগত কৌশল যেখানে—

প্রথম স্তর (Bread Layer)

ব্যক্তি নিজেকে মূলধারার বা পেশাদার গণমাধ্যমের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।
এতে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার ও জনআস্থা তৈরি হয়।

দ্বিতীয় স্তর (Middle Layer)

পরবর্তীতে সেই পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে—কিছু ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয়:

  • ব্ল্যাকমেইল
  • আর্থিক সুবিধা আদায়
  • প্রভাব বিস্তার
  • রাজনৈতিক তদবির
  • ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তি
  • ভয়ভীতি প্রদর্শন

তৃতীয় স্তর (Bread Layer Again)

যখন আইনি জটিলতা বা সমালোচনা তৈরি হয়, তখন আবার “পেশাদার সাংবাদিক” পরিচয় সামনে আনা হয় এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আড়ালে আত্মরক্ষার চেষ্টা করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকতার সীমারেখাকে ঝাপসা করে দিচ্ছে।


কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন—

১. অনলাইন মিডিয়ার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার

অল্প খরচে অনলাইন পোর্টাল খোলা সম্ভব হওয়ায় অনেকেই সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা নৈতিকতা ছাড়াই।

২. পরিচয়ভিত্তিক প্রভাবের সংস্কৃতি

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে সাংবাদিক পরিচয় প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে বিশেষ প্রভাব তৈরি করে।

৩. দুর্বল জবাবদিহিতা

অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয়ধারীরা দীর্ঘদিন পার পেয়ে যান।

৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার

ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব “স্টিং”, বা আংশিক তথ্য প্রকাশ করে চাপ সৃষ্টি করার প্রবণতাও বাড়ছে।


প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য কতটা হুমকি?

বিশ্লেষকদের মতে, “স্যান্ডউইচ সাংবাদিকতা” সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে পেশাদার সাংবাদিকদের।

আস্থার সংকট

জনগণের একটি অংশ এখন সাংবাদিকদের প্রতিও সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠছে।

তথ্য সংগ্রহে বাধা

অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রকৃত সাংবাদিকদেরও অবিশ্বাস করতে শুরু করেছেন।

পেশাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি

অপসাংবাদিকতার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কখনও কখনও প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপরও পড়ে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষতি

যখন ব্ল্যাকমেইলকে “অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন প্রকৃত অনুসন্ধানী কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।


সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য  ক্ষতি

গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়

সাংবাদিকতার ওপর আস্থা কমে গেলে জবাবদিহিতাও দুর্বল হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই ক্ষতিগ্রস্ত হয়

কারণ মানুষ সত্যিকারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকেও সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে।

আইন ও প্রশাসনের অপব্যবহার বাড়ে

ভুয়া পরিচয়ে প্রভাব খাটানো প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

মিডিয়ার সামগ্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট হয়

একজনের অপকর্ম পুরো পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বইয়ে কী বলা হয়েছে?

গণমাধ্যম নৈতিকতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণায় সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারকে গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Bill Kovach ও Tom Rosenstiel

তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ The Elements of Journalism-এ সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হিসেবে “জনস্বার্থ” ও “সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা”-র কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের প্রবণতা এই নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

Walter Lippmann

Public Opinion বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হলে জনগণের বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

UNESCO’র মিডিয়া নৈতিকতা বিষয়ক নীতিমালা

সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়কে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Society of Professional Journalists (SPJ) Code of Ethics

এখানে সাংবাদিকদের “Avoid conflicts of interest” এবং “Act independently” নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতামত

মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে,
“সাংবাদিকতা কখনোই ব্যক্তিগত অস্ত্র হতে পারে না। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ভয়ভীতি, অর্থ আদায় বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাহলে তা শুধু অনৈতিক নয়—এটি পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।”


করণীয় বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পদক্ষেপের সুপারিশ করছেন—

  • সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নৈতিকতা প্রশিক্ষণ
  • অনলাইন মিডিয়া নিবন্ধন ও যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা
  • প্রেস কার্ড ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা
  • ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
  • পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা
  • গণমাধ্যম সাক্ষরতা (Media Literacy) বাড়ানো

“স্যান্ডউইচ সাংবাদিকতা” কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক শব্দ নয়; এটি সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে গড়ে ওঠা এক বিপজ্জনক সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যখন সাংবাদিকতা জনস্বার্থের বদলে ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার হয়ে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি পেশা নয়—পুরো সমাজ, রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামো।

প্রকৃত সাংবাদিকতা সত্য, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণের জন্য। আর সেই জায়গাটি রক্ষা করতে হলে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025